১০টি জেনারেটর বিক্রয়কারী বাংলাদেশী সেরা কোম্পানি

মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করলেও পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গনে তখনও পর্যন্ত ছিল দলটির একচেটিয়া দাপট।

এর মধ্যে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী আসাম থেকে ঢাকায় চলে আসেন। তিনি আসামের ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় চর ভাসানে দীর্ঘ সময় মুসলিম লীগের রাজনীতি করেছেন। এজন্য তিনি ভাসানী নামে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন।

মুসলিম লীগ সরকারের ভয়ভীতি ও নির্যাতন উপেক্ষা করে তিনি নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নেন।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “মওলানা ভাসানী যে পাকিস্তান চেয়েছিলেন সেটা না পেয়ে তিনি আন্দোলনে নেমে পড়লেন এবং তাকে কেন্দ্র করেই আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হল। তিনি সভাপতি হলেন।”

নতুন দল গঠনের এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পাকিস্তানের রাজধানী করাচীতে বসবাসরত পূর্ব বাংলার আরেক জনপ্রিয় নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং কলকাতা ফেরত যুবক শেখ মুজিবুর রহমান।

উনিশ’শ উনপঞ্চাশ সালের ২৩শে জুন গঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। আওয়ামী লীগ নামটি দিয়েছিলেন মওলানা ভাসানী যার অর্থ জনগণের মুসলিম লীগ। মুসলিম লীগের অগ্রগণ্য অনেক নেতা নতুন দলে যোগ দেন। জেলে আটক থাকলেও শেখ মুজিব হলেন যুগ্ম সম্পাদক।

রাজনৈতিক ইতিহাসবিদ মহিউদ্দিন আহমেদ বলছেন, “জেলে আটক অবস্থায় দলের একটি উঁচু পদে তার নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে এটা অনুমান করা যায়, তাকে একজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে মনে করা হতো।”

আওয়ামী মুসলিম লীগ পরিচালনার ব্যাপারে সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন শেখ মুজিব। সোহরাওয়ার্দী তাকে খুব স্নেহ করতেন- পশ্চিম পাকিস্তানে গেলে তার থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করতেন, জামা কাপড় কিনে দিতেন। অন্যদিকে সোহরাওয়ার্দী পূর্ব বাংলায় এলে শেখ মুজিব সব সময় তার সহযোগী হতেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.